টাকার অবমূল্যায়ন । ০৬ বছরে টাকার মান ঠিক কতটা কমেছে?

টাকার মান বা মূল্য কিভাবে কমে যায় সেটি নিয়েই আজ আলোচনা করবো-টাকা জমা বা ঘরে বসিয়ে রাখলে যে মূল্য কমে টাকা অর্ধেক হয়ে যেতে পারে সেটি নিয়ে পরিস্কার হবো – টাকার অবমূল্যায়ন হয় যেভাবে

টাকার অবমূল্যায়ন কি – টাকার অবমূল্যায়ন হলো টাকার মান কম হওয়া বা টাকার ক্রয়শক্তি কম হওয়া। অবমূল্যায়নের কারণ হতে পারে মূল্যতার বৃদ্ধি, মুদ্রার মূল্যতার কমতান অথবা বিভিন্ন অর্থনীতিগত ফ্যাক্টর। টাকার অবমূল্যায়নের কারণ হতে পারে একাধিক কারণ যেমন- যখন মূল্যতার বৃদ্ধি ঘটে এবং পণ্য এবং পরিষেবার মূল্য বাড়ছে, তখন টাকার মান কমে যায়। এই পরিস্থিতিতে একই পরিমাণ টাকা দিয়ে আগের মত বহুদূর পণ্য কিনা সম্ভব হয় না। এটা টাকার ক্রয়শক্তিকে হ্রাস করে এবং অবমূল্যায়ন সৃষ্টি করে। মুদ্রার মূল্য কমে গেলে টাকার মান অনুপাতিকভাবে কমে যায়। একই পরিমাণ টাকা দিয়ে আগের মত পণ্য কিনা সম্ভব হয় না এভাবেই টাকা অবমূল্যায়িত হয়।

স্বর্ণ কি টাকার বিকল্প? হ্যাঁ। আন্তর্জাতিক লেনদেনে টাকা বা মুদ্রার বিপরীতে স্বর্ণ ব্যবহৃত হয়। তবে টাকা ঘরে রেখে দিলে সেটি কমতে থাকে অন্যদিকে স্বর্ণ ঘরে রেখে দিলে সেটির মান বাড়তে থাকে। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ সালে স্বর্ণের দাম সারা দেশে প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট সোনা ৪৮ হাজার ৯৮৯ টাকা, ২১ ক্যারেট ৪৬ হাজার ৭৭৩ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট সোনা বিক্রি হবে ৪১ হাজার ১১৬ টাকায়। অন্যদিকে ২০২৩ সাথে জুন মাসে বাংলাদেশ জুয়েলারী সমিতি তাদের স্বর্ণের রেট ২২ ক্যারেট প্রতি গ্রাম ৮৪৪০ টাকা ধার্য্য করেছে। ফলে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম হয়ে গেলে ১১.৬৬৪*৮৪৪০ = ৯৮,৪৪৪.১৬ টাকা অর্থাৎ পূর্ব মূল্য ৯৬,৬৯৪.৫৬ টাকা। অর্থাৎ ভাল মানের স্বর্ণ প্রতি ভরিতে ৬ বছরে বৃদ্ধি পেয়েছে ৯৮৪৪৪-৪৮৯৮৯ = ৪৯৪৫৫ টাকা অর্থাৎ এখানে দ্বিগুনেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

মুদ্রার অবমূল্যায়ন কেন করা হয়? মুদ্রার অবমূল্যায়ন কার্যক্রমটি মুদ্রার মানের ক্ষয়ক্ষতি নির্ণয় করার জন্য করা হয়। মুদ্রার অবমূল্যায়নের সাধারণ উদ্দেশ্য হলো মুদ্রার মান কতটা পরিমাপ গঠন করেছে এবং এর অবস্থা বোঝার মাধ্যমে অর্থনৈতিক নির্ণয় নেওয়া। মুদ্রার অবমূল্যায়ন করে সরকার স্থাপন করে যে একটি মুদ্রার স্থিতিশক্তি নির্ধারণ করতে পারে। এটি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ও পরিবর্তনশীলতা পর্যবেক্ষণ করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মুদ্রার মূল্য কমতা বা বৃদ্ধি নির্ভর করে বিপণন ও মূল্যতার নির্ধারণের জন্য। মুদ্রার অবমূল্যায়ন সরকারকে সাহায্য করে নির্ধারণ করতে যে একটি পণ্য বা সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে আপনি কত ব্যয় করবেন।

টাকার মান দ্বিগুণ হারে কমতে থাকে এবং স্বর্ণের দাম দ্বিগুণ হারে বাড়তে থাকে। 

আপনার অল্প কিছু টাকা থাকলে তা ঘরে না রেখে তা দিয়ে স্বর্ণ বা স্বর্ণের গহনা গড়ে রাখুন তাকে সম্পদ কমবে না বরং বাড়বে।

টাকার অবমূল্যায়ন । ০৬ বছরে টাকার মান ঠিক কতটা কমেছে?

Caption: Taka Devaluation after 6 years passed away

৫০০ টাকাকে ভিত্তি ধরে চলুন হিসাব করি । মাংসের দামকে বেইজ ঘরে টাকা মূল্যায়ন করা হবে

  1. ২০১৭ সালে ৫০০ টাকার নোটের জন্ম হয় বা পাবলিকের হাতে আসে।
  2. ঐ সময়ে নোটটি নিয়ে বাজারে গেলে ১ কেজি গরুর মাংস কেনার পরে ১০০ টাকা বাঁচতো বা অবশিষ্ট থাকতো।
  3. ২০২৩ সালে এসে নোটটি হাতে নিয়ে চিন্তা করুন যে, ঠিক কত গ্রাম মাংস কিনতে পারবেন? এখন এই নোটটি নিয়ে বাজারে গেলে এক কেজি গরুর মাংস কেনার জন্য আমাকে আরও ৩০০ টাকা যোগ করতে হচ্ছে।
  4. অর্থাৎ এখানে ৬ বছরে ৫০০ টাকার নোটের মূল্য ২৫০ টাকা অর্থাৎ অর্ধেক মূল্যে এসে পৌছেছে।
  5. নোটটির মূল্যমান ৫০০ টাকা হলেও অবমূল্যায়িত মূল্য ২৫০ টাকা মাত্র। অর্থাৎ ছয় বছরে টাকার মান কমে অর্ধেক হয়েছে।

কোথায় বিনিয়োগ করা ভাল?

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ক্ষেত্রে সমূহ দেখুন। ফসলি বা দোকানপাট জমিতে বিনিয়োগ করুন তাতে ১০ বছরে ৫-২০% বাড়বে। স্বর্ণের বার বা জুয়েলারীতে বিনিয়োগ করুন ১০ বছরে ৪ গুন হবে। সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করুন ১০ বছরে ২.৫ গুন হবে। শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করুন ১০ বছরে ৪.৫ গুন হবে। ব্যাংক এফডিআর বিনিয়োগ করুন ১০ বছরে দ্বিগুন হবে। শেয়ারে বিনিয়োগের কথা শুনে ভয় পাবেন না যেন, স্বল্প সময়ের বিনিয়োগে ক্ষতির সম্মুখীন হলেও দীর্ঘসময়ের বিনিয়োগে লাভবান হওয়া যায়, অবশ্যই ঝুকিঁ জেনে বুঝে বিনিয়োগ করুন।

১ লক্ষ টাকা ব্যাংকে রাখলে ২০২৩ । লাভ বা মুনাফা বেশি পাওয়া যাইবে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *