ডিজিটাল অনলাইন ব্যাংকিং । ফিজিক্যাল কোন শাখা থাকবে না এবং সম্পূর্ণ টেকনোলজি বেইজড

ভার্চুয়াল ব্যাংক থেকে লোন গ্রহন ও আমানত জমা করে যাবে-মোবাইল ব্যাংকিং এ কিস্তি পরিশোধ এবং দেশের যে কোন এটিএম বুথ হতে টাকা উত্তোলন করা যাবে –ডিজিটাল অনলাইন ব্যাংকিং

ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপন বিষয়ক গাইডলাইন্স –অন্তর্ভুক্তিমূলক টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) এবং জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশল (NFIS) এর লক্ষ্য অর্জন ও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের (4IR) চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার উদ্দেশ্যে প্রচলিত শাখা/উপশাখা ভিত্তিক ভৌত অবকাঠামো সম্পন্ন Brick & Morter মডেলের পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী প্রচলিত তথ্য প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা প্রচলনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলাদেশে বিশ্বমানের আর্থিক সেবা প্রদানের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থিক অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে বিভিন্ন বিকল্প ডেলিভারি চ্যানেল, তথা, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (MFS) এবং অন্যান্য e-wallet এর মাধ্যমে ডিজিটাল আর্থিক সেবা প্রদানের জন্য ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসমূহকে অনুমতি দিয়েছে। উক্ত সেবাসমূহের অধিকতর সম্প্রসারণ ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে ডিজিটাল প্লাটফর্মের ভূমিকা অনস্বীকার্য ।

শুরু হতে শেষ প্রান্ত (end-to-end) শাখাবিহীন ভার্চুয়াল ব্যাংকিং ব্যবস্থা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের জন্য একটি সুষ্ঠু আর্থিক ইকোসিস্টেম তৈরী করবে যা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাংকিং সুবিধা বঞ্চিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে। এ লক্ষ্যে, বাংলাদেশ ব্যাংক একটি প্রযুক্তিনির্ভর প্লাটফর্ম উদ্ভাবন সহায়ক রেগুলেটরী পরিবেশ সৃষ্টি করছে যা দায়িত্বশীল আর্থিক সেবা এবং সাইবার রেজিলিয়েন্স বৃদ্ধির পাশাপাশি আর্থিক খাতে ডিজিটাইজেশনকে এগিয়ে নিতে অবদান রাখবে। এ লক্ষ্যে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ‘ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপন বিষয়ক গাইডলাইন্স’ প্রণয়ন করেছে।

প্রচলিত ব্যাংকের ন্যায় ডিজিটাল ব্যাংকও বাংলাদেশ ব্যাংকের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামোতে চিহ্নিত একই ধরনের ঝুঁকির সম্মুখীন হবে বিধায় এর একটি কার্যকর নিয়ন্ত্রণ কাঠামো এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া থাকবে যা ডিজিটাল ব্যাংকের ব্যবসায়িক মডেল, কৌশল, প্রক্রিয়া এবং পণ্যগুলির সংস্পর্শে আসা ঝুঁকিগুলি যথাযথভাবে সনাক্ত, পরিমাপ, নিরীক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রণ করবে। ডিজিটাল ব্যাংকের কর্পোরেট গভর্নেন্স প্রচলিত ব্যাংকের একই মানদণ্ডে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হবে। ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এর ধারা ৩১ এর আওতায় প্রতিটি ডিজিটাল ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংক হতে লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে এবং পরিশোধ সেবা পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস রেগুলেশন, ২০১৪ এর বিধানাবলী অনুসরণীয় হবে।ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এবং তৎপরবর্তী সংশোধনী, বাংলাদেশ পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেম রেগুলেশন, ২০১৪ এবং বাংলাদেশ ব্যাংক হতে সময় সময় জারিকৃত

কত টাকা হলে ডিজিটাল ভার্চুয়াল ব্যাংকের মালিক হওয়া যাবে? প্রতিটি ডিজিটাল ব্যাংক ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এর ধারা ৩১ এর অধীন লাইসেন্সপ্রাপ্ত পাবলিক লিমিটেড কোম্পানী। প্রস্তাবিত ডিজিটাল ব্যাংকের ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন হবে ১২৫ কোটি টাকা অথবা ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এর ধারা ১৩ এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সময় সময় নির্ধারিত পরিমাণ। এই ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন কেবল সাধারণ শেয়ার দ্বারা সৃষ্ট হবে। পরিশোধিত মূলধন, প্রতিশ্রুত মূলধন, অনুমোদিত মূলধন এবং শেয়ারহোল্ডারগণের ভোটাধিকার ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এর ধারা ১৪ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে।

ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এর ধারা ৩১(৪) এর শর্তগুলি সম্পূর্ণরূপে পূরণ না হলে লাইসেন্স প্রদান না করার পূর্ণ অধিকার বাংলাদেশ ব্যাংক সংরক্ষণ করে। ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এর ধারা ৩১(৫) এ উল্লিখিত কারণসমূহের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক একই আইনের ধারা ৩১ এর অধীনে জারি করা লাইসেন্স বাতিলের পূর্ণ অধিকার সংরক্ষণ করে।

বাংলাদেশ ব্যাংক এমন ডিজিটাল ব্যাংক খোলার ঘোষণা দিয়েছে / দেশের যোগ্য নাগরিকগণ এ ভার্চুয়াল ব্যাংক খুলতে পারবে

আবেদনপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়া কি? বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কর্তৃক মনোনীত সদস্যদের একটি প্যানেল দ্বারা সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত আবেদনসমূহ মূল্যায়ন করা হবে। সফল আবেদনকারী ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে লেটার অফ ইনটেন্ট (LOI) পাবেন। লেটার অফ ইনটেন্ট (LOI) এ নির্ধারিত শর্তাবলী পরিপালনে ব্যর্থ হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে। লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে প্রত্যয়িত বা মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করা হলে প্রদত্ত LOI বাতিল করা হবে এবং স্পন্সরদের কার্যকলাপ ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এর ধারা ১০৯(২) এর অধীনে শাস্তিযোগ্য হবে;

ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপন বিষয়ক গাইডলাইন্স PDF Download

গ্রাহক সম্পর্কিত বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা । কেওয়াইসিতে কি কি তথ্য থাকবে?

  1. সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক জারিকৃত বিভিন্ন রেগুলেশন যেমন: কর্পোরেট গভর্নেন্স এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, বিশেষতঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং সাইবার নিরাপত্তা, আউটসোর্সিং, ভোক্তা সুরক্ষা, অ্যান্টি-মানিলন্ডারিং (AML) এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ (CFT) ইত্যাদি পরিপালন করতে হবে;
  2. নির্ধারিত ব্যবসায় ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্যে গ্রাহকের তথ্য ব্যবহার করবে না। গ্রাহকের কাছ থেকে এমন কোনো ব্যক্তিগত তথ্য চাইবে না যা গ্রাহকের গোপনীয়তা লঙ্ঘন করতে পারে; গ্রাহকদের কাছ থেকে কোন্ কোন্ উদ্দেশ্যে কিরূপ তথ্য সংগ্রহ করবে সে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমতি গ্রহণ করতে হবে;
  3. লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে নিজের গ্রাহকের পরিচিতি সংরক্ষণ (KYC), লেনদেন সীমা এবং ন্যূনতম প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়ে নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ (এর বাইরেও অন্যান্য বিষয় থাকতে পারে) বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক বিবেচনা করা হবে- ক) গ্রাহকের পরিচিতি সংরক্ষণ (KYC) এর নির্ধারকসমূহ; (খ) লেনদেন সীমা (গ্রাহকের প্রোফাইলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সীমা); (গ) জমা ও উত্তোলনের সর্বোচ্চ সীমা; (ঘ) ন্যূনতম প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্ধারকসমূহ; এবং (ঙ) টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (TFA) অর্থাৎ, লেনদেনের ক্ষেত্রে ফটো আইডি, ব্যক্তিগত সনাক্তকরণ নম্বর (PIN) বা অন্য কোনো গোপন কোড বা বার্তা ব্যবহার ইত্যাদি।

ব্যাংক খুলতে কি কি কাগজপত্র লাগবে?

ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স প্রাপ্তির লক্ষ্যে আবেদন প্রক্রিয়াকরণ ফি (অফেরতযোগ্য) বাবদ ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে জমা প্রদান (প্রযোজ্য চার্জ আবেদনকারীকে বহন করতে হবে) সাপেক্ষে একই ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন দাখিল করতে হবে। এক্ষেত্রে নিম্নলিখিত দলিলাদি, পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও বিশ্লেষণ সম্বলিত আবেদন (সংযোজনী-১) দাখিল করতে হবে, অন্যথায় তা বিবেচনাযোগ্য হবে না: আবেদনপত্র, আবেদনকারী এবং যোগাযোগকারী ব্যক্তির নাম, ঠিকানা, টেলিফোন নম্বর, ইমেল ঠিকানা ইত্যাদি; বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিবেশ, আর্থিক ব্যবস্থা, প্রস্তাবিত ব্যাংকের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা (সংযোজনী-৩), আইসিটি পরিকল্পনা (সংযোজনী-৪) এবং ব্যবসায়িক রেজোল্যুশন (Resolution ) পরিকল্পনা (সংযোজনী-৫) বিশ্লেষণসহ প্রস্তাবিত ডিজিটাল ব্যাংকের সম্ভাব্যতা (Feasibility) প্রতিবেদন (সংযোজনী-২), আর্থিক প্রক্ষেপণ এবং সংবেদনশীলতা বিশ্লেষণ; প্রত্যেক উদ্যোক্তা পরিচালক/স্পন্সর, সিইও/এমডি, চিফ অপারেটিং অফিসার (COO), চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার (CFO), চিফ রিস্ক অফিসার (CRO), চিফ ইনফরমেশন টেকনোলজি অফিসার (CITO), চিফ ইনফরমেশন সিকিউরিটি অফিসার (CISO), প্রস্তাবিত ব্যাংকের হেড অফ ইন্টারনাল কন্ট্রোল অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স (HICC) এর জীবন-বৃত্তান্ত (সংযোজনী ৬ এবং ৭) এবং সঙ্গে পাসপোর্ট আকারের ছবি, তাদের নাগরিকত্বের প্রমাণস্বরূপ জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এবং পাসপোর্টের কপি। বিদেশী নাগরিকদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস/ হাইকমিশন দ্বারা যথাযথভাবে প্রত্যয়নকৃত তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং পাসপোর্টের কপি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *