বিও একাউন্ট থেকে বন্ড ক্রয়-প্রক্রিয়া ২০২৪ । স্টক মার্কেট সিকিউরিটিজ বন্ড ক্রয়-বিক্রয় করা যায়?

আপনার যদি একটি বিও বা শেয়ার ক্রয় বিক্রয়ের একাউন্ট থাকে আপনি সেই একাউন্ট হতে ১ লক্ষ বা ২ লক্ষাধিক সরকারি বন্ড ক্রয় বিক্রয় করতে পারবেন- আপনাকে ব্যাংকে যেতে হবে না-ওকশনের অপেক্ষায় থাকতে হবে না–বিও একাউন্ট থেকে বন্ড ক্রয়-প্রক্রিয়া ২০২৪

ট্রেজারি বিল ও বন্ড কি? ব্যয় মেটাতে সরকার বিভিন্ন সময় জনগণ বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সুদ প্রদানের ভিত্তিতে ঋণ নিয়ে থাকে। দেশের উন্নয়ন, জরুরি প্রয়োজন বা বেতন-ভাতা দিতে সরকার এসব ঋণ নিয়ে থাকে। ট্রেজারি বিল বা বন্ডের মাধ্যমে এই অর্থ সংগ্রহ করা হয়। একে সরকারি সিকিউরিটিজও (G-SEC) বলা হয়।

সবাই কি বন্ড কিনতে পারে? না। সাধারণত সব ট্রেজারি বন্ড সবাই কিনতে পারে না। বন্ড ইস্যুর আগেই ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি নিজেরাই ঠিক করে নেয় কাদের কাছে তারা এ বন্ড বিক্রি করবে। সেই অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে বন্ডের অনুমোদন নেওয়া হয়। যেসব প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিশ্রেণি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বন্ড ইস্যু করে, সেসব বন্ড প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর মতো শেয়ারবাজারে ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে কেনা যায়। সেই ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ে ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। আর যেসব বন্ড শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়, সেগুলো শেয়ারবাজার থেকে যখন ইচ্ছা তখন কেনাবেচা করা যায়। সাধারণত ট্রেজারি বন্ডের মেয়াদ হয়ে থাকে ২ বছর, ৫ বছর, ১০ বছর, ১৫ বছর এবং ২০ বছর।

বিও একাউন্ট কোম্পানিকে মেইলে জানালেই হবে? হ্যাঁ। ট্রেজারি বন্ডের অকশনগুলো সাপ্তাহিক ভাবে প্রতি মঙ্গলবার হয়ে থাকে। যারা আবেদন করতে ইচ্ছুক তারা রবিবার বিকাল ৩ টার মধ্যে accounts@bd.com (আপনার বিও কোম্পানি) অ্যাড্রেসে ইমেইল করবেন। ইমেইলে জানাতে হবে, আপনি কত টাকা বিনিয়োগ করতে ইচ্ছুক সেটা উল্লেখ করতে হবে। সর্বনিম্ন ১ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। কেউ যদি ২ টা ট্রেজারি বন্ডের জন্য আবেদন করতে চান তাকে ২ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। এরকম আনুপাতিক হারে আপনার বিনিয়োগের পরিমান বাড়াতে পারেন। অকশন ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আপনি ট্রেজারি বন্ড কত মেয়াদের জন্য এবং কোন তারিখে কিনতে চান সেটা জানাতে হবে।

বিও একাউন্ট থেকে বন্ড ক্রয়-প্রক্রিয়া ২০২৪ । ট্রেজারি বন্ডে ইন্টারেস্ট হার কত?

এখন সুদের হার ১২% ছাড়িয়ে গিয়েছে। প্রতিমাসেই আপনি সুদ পেতে থাকবেন

বিও একাউন্ট থেকে বন্ড ক্রয়-প্রক্রিয়া ২০২৪ । স্টক মার্কেট সিকিউরিটিজ বন্ড ক্রয়-বিক্রয় করা যায়?

Caption: sample of treasury rate

গভর্নমেন্ট ট্রেজারি বিল লেনদেন ২০২৪ । কিভাবে ট্রেজারি বন্ড ক্রয়-বিক্রয় করা যায়?

  1. বাংলাদেশের নিবাসী অথবা অনিবাসী যেকোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করতে পারেন। এসব বন্ডে বিনিয়োগ করতে হবে অন্তত এক লাখ টাকা বা এর গুণিতক। ট্রেজারি বন্ডে সুদ গ্রহণের সময় পাঁচ শতাংশ কর দিতে হয়।
  2. সাধারণ ব্যবস্থায় বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে বিজনেস পার্টিসিপেন্ট আইডি (বিপি আইডি) খুলে বন্ড ক্রয়-বিক্রয় করা হয়ে থাকে। কিন্তু পুঁজিবাজারে যাদের বিও বা বেনিফিশিয়ারি ওনার্স অ্যাকাউন্ট রয়েছে, তারা সেই অ্যাকাউন্ট থেকেই বন্ড কিনতে পারবেন।
  3. আবার বিও অ্যাকাউন্ট আছে এমন যাদের কাছে বন্ড রয়েছে, তারা সেই হিসাব বা অ্যাকাউন্ট থেকেই বন্ড বিক্রি করতে পারবেন। সেজন্য তাদের বন্ডটি বিপি আইডি থেকে বিও অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করতে হবে। সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউজে যোগাযোগ করলেই তারা এ সংক্রান্ত ব্যবস্থা নেবে।
  4.   তবে পুঁজিবাজারে যারা তালিকাভুক্ত রয়েছেন, তাদের বন্ড কেনার জন্য আলাদা বিপি আইডি খুলতে হবে না। এক্সচেঞ্জ থেকে বন্ড কেনার সাথে সাথে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভারে তার বিপি আইডি তৈরি হয়ে যাবে।
  5. ট্রেজারি বন্ড অন্তত একটি লট ধরে কিনতে হবে, যার মূল্যমান হতে পারে অন্তত এক লাখ টাকা। এগুলো ক্রয়-বিক্রয়ের ম্যাচুরিটি হবে সাধারণ শেয়ারের মতোই।

ট্রেজারি বন্ড ক্রয়ে কি কি সুবিধা?

এটি একটি সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগ, যেহেতু এটি সার্বভৌম সরকার দ্বারা জারি করা হয়। সুদ বাজার দ্বারা নির্ধারিত হয় এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে আকর্ষণীয় সুদ পাওয়া যায়। যেহেতু এই বন্ডগুলি সেকেন্ডারি মার্কেটে লেনদেনযোগ্য, তাই কেউ বাজারে বিক্রি করে তাৎক্ষণিক তা ক্যাশ করে নিতে পারে।বিদেশী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সুদ এবং বিনিয়োগকৃত অর্থ সম্পূর্ণ ভাবে ফেরতযোগ্য।

গভর্নমেন্ট ট্রেজারি বিল ও বন্ড ২০২৪ । যে কারণে আপনি ট্রেজারি বিল বা বন্ডে বিনিয়োগ করবেন

One thought on “বিও একাউন্ট থেকে বন্ড ক্রয়-প্রক্রিয়া ২০২৪ । স্টক মার্কেট সিকিউরিটিজ বন্ড ক্রয়-বিক্রয় করা যায়?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *