ব্যাংক ঋণের কিস্তি খেলাপীর জরিমানা । মেয়াদোত্তীর্ণ কিস্তির উপর কি হারে দন্ড সুদ আরোপ করা যাবে?

বাংলাদেশ সরকার ব্যাংক ঋণের সুদ বাজার ভিত্তিক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেই ধারাবাহিকতায় দন্ডসুদ ও মার্জিন নির্ধারিত হচ্ছে– ব্যাংক ঋণের কিস্তি খেলাপীর জরিমানা

সুদ কি তাহলে বাজার ভিত্তিক হচ্ছে?– বিআরপিডি সার্কুলার নং-০৯ তারিখ ১৯ জুন ২০২৩ এর প্রতি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাচ্ছে।  সার্কুলারের মাধ্যমে ব্যাংক কর্তৃক বিতরণকৃত ঋণের বাজার ভিত্তিক সুদহার ব্যবস্থা প্রবর্তনের লক্ষ্যে নীতিমালা প্রণয়নকরত প্রদত্ত নীতিমালা অনুসরণের জন্য আপনাদেরকে নির্দেশনা প্রদান করা হয় । এক্ষণে, বৈশ্বিক বিরূপ অর্থনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহকে অধিকতর অভিঘাত সহনশীল করার পাশাপাশি দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পের বিকাশ ও প্রসারে চলমান ধারা অব্যাহত রাখার নিমিত্ত এবং অধিকতর দক্ষ ঋণ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে নির্দেশনা অনুসরণীয় হবে।

রপ্তানি ঋণের সুদ হারে মার্জিন? প্রি-শিপমেন্ট রপ্তানি ঋণের সুদহার নির্ধারণের ক্ষেত্রে SMART এর সাথে সর্বোচ্চ ২% মার্জিন যোগ করে সুদহার নির্ধারণ করতে হবে। কোনো ঋণ অথবা ঋণের কিস্তি সম্পূর্ণ বা আংশিক মেয়াদোত্তীর্ণ (Overdue) হিসেবে চিহ্নিত হলে যে সময়ের জন্য মেয়াদোত্তীর্ণ হবে, উক্ত সময়ে চলমান ঋণ/তলবী ঋণের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ঋণস্থিতির উপর এবং মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে মেয়াদোত্তীর্ণ কিস্তির উপর সর্বোচ্চ ১.৫ শতাংশ হারে দন্ড সুদ আরোপ করা যাবে।

সিসি লোন কি? বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক সিসি লোন হলো ক্রাশ ক্রেডিট লোন। কৃষি ব্যাংক থেকে সিসি লোন নেয়ার জন্য প্রথমে আপনাকে এই ব্যাংকে কিছু সম্পদ জমা রাখতে হবে এবং এর পরিবর্তে এই ব্যাংক থেকে লোন গ্রহন করতে পারবেন। সাধারণত এই সকল ক্ষেত্রে লোনের দ্বিগুণ সম্পদ ব্যাংকে জমা রাখতে হয়। কৃষি ব্যাংক থেকে সিসি লোন করা হয় অনেক বেশি এমাউন্টের লোনের ক্ষেত্রে। মনে করেন আপনি ব্যাংক থেকে ১০ লক্ষ টাকা লোন নেয়ার চাচ্ছেন সেক্ষেত্রে আপনাকে ব্যাংকে ২০-২৫ লক্ষ টাকার সম্পদ জমা রাখতে হবে। বিশেষ করে কৃষি ব্যাংক সিসি লোন গ্রহণকারীরা জমির দলিল বন্ধক রাখে।

সিসি লোন সাধারণত ১ বছরের জন্য দেওয়া হয়। পরবর্তীতে চাইলে আপনি এই সময় বর্ধিত করতে পারবেন। সিসি লোনের ক্ষেত্রে লোন গ্রাহনকারীকে ৯% সুদ প্রদান করতে হবে যদিও এখন ১২-১৪% সুদ গুনতে হবে। সিসি লোনের সবথেকে বড় সুযোগ হল অনেক বেশি টাকা একবারে লোন পেতে পারেন।

ব্যাংক ঋণ ও সুদের হার বাজার ভিত্তিক করণ । নতুন ভাবে মার্জিন ও দন্ডসুদ নির্ধারিত হইবে

ব্যাংকগুলো চাইলে দন্ড সুদ ও মার্জিন বেশি রাখতে পারবে না।

মেয়াদোত্তীর্ণ কিস্তির উপর সর্বোচ্চ ১.৫ শতাংশ হারে দন্ড সুদ আরোপ করা যাবে।

Caption: Bangladesh Bank Circular

কৃষি ব্যাংক থেকে লোন পাওয়ার প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস। কি কি কাগজপত্র লাগে?

  1. লোনের জন্য আবেদন করার আগে অবশ্যই কৃষি ব্যাংকে একাউন্ট খুলে নিতে হবে।
  2. আবেদনকারীর ভোটার আইডি কার্ড তথা জাতীয় পরিচয় পত্র।
  3. আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজের ৩ কপি ছবি।
  4. কৃষি কার্ড প্রয়োজন হবে।
  5. জমিন দাতা ব্যক্তির ভোটার আইডি কার্ড এবং পাসপোর্ট সাইজের ২ কপি ছবি।
  6. কতটুকু জমি রয়েছে অর্থাৎ জমির দলিল।
  7. সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক ডিপি নোট স্ট্যাম্প।
  8. লেটার অফ হাইপোথিকেশন।
  9. শস্য বন্ধকি দলিল।
  10. জমিন দাদার প্রদত্ত গ্যারান্টি পত্র।
  11. বিতরণব্যবস্থা ও ব্যবস্থাপক
  12. জমির খাজনার কাগজপত্র।
  13. পূর্বে কোন ব্যাংক ডকুমেন্ট থাকলে সেটি।
  14. এছাড়াও যদি কোন ডকুমেন্টস প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে আপনাকে কৃষি ব্যাংকের ব্রাঞ্চ থেকে জানানো হবে। এবং পরবর্তীতে ওই ডকুমেন্টগুলো সংগ্রহ করে কৃষি ব্যাংক থেকে লোনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। খতিয়ান ও দাগের তথ্য অনলাইনে যাচাই করুন।

ব্যাংক ঋণের কিস্তি না দিলে কি হয়?

যদি আপনি একটি ব্যাংক ঋণের কিস্তি না দিতে থাকেন, তবে সাধারণভাবে কয়েকটি অসুবিধা হতে পারে। ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে, কিছু কিস্তির মাস পর মাস আপনাকে কিস্তি প্রদান করতে হয় এবং তার মাধ্যমে ঋণ পরিশোধ করা হয়। যদি আপনি কিস্তি দেয়নি তবে ব্যাংক এই পরিশ্রমের জন্য আপনার বিবেচনা করতে পারে এবং আপনাকে দ্বিধা করতে পারে যে আপনি ঋণ পরিশোধে সক্ষম হবেন কি না। ব্যাংক কিস্তি বা ঋণের মেয়াদ অতিবাহিত করলে, ব্যাংক আপনাকে দন্ড প্রদান করতে পারে বা নোটিশের মাধ্যমে আপনাকে সময় দিতে পারে ঋণ পরিশোধ করার জন্য। ব্যাংক এটি অকর্মণ্য করতে পারে এবং একটি অতিরিক্ত দেনা প্রদান করতে পারে কিছু দ্বারা পরিচালিত ফি বা শাস্তি। ক্রেডিট রেকর্ডে অপসারণ হতে পারে যা আপনার ঋণের পরিশোধে ক্ষমতা দেখাতে পারে। যদি আপনি কিস্তি দেয়নি তবে এটি আপনার ক্রেডিট রেকর্ড উপসারণ করতে পারে এবং ভবিষ্যতে ঋণ গ্রহণে আপনি সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন।

ব্যাংক আপনার কাছে আইনী পদক্ষেপ নেতে পারে, যা আপনাকে ঋণ পরিশোধে অনুমতি দেয় বা আপনার সম্পদ উদ্ধারে সহায়ক হতে পারে। সাধারণভাবে, ব্যাংক প্রদত্ত ঋণের পরিশোধ বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয় এবং কিস্তি দিতে অনুমতি করে ঋণ পরিশোধের প্রক্রিয়াটি সহজ করে তোলে। সেই সাথে, কিস্তি না দেওয়া অনিবার্য অনুমতির ক্ষেত্রে ব্যাংক আপনাকে বিশেষ করে দক্ষতা দেখাতে পারে। তবে সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করা সাম্প্রতিক দ্বিতীয় বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে যেটি উচ্চতর ঋণ পরিশোধ বা ক্রেডিট রেকর্ড ভূগল্ভ করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *