সবল ও দুর্বল ব্যাংক একীভূতকরণ ২০২৪ । যে ব্যাংক গুলো বিলুপ্ত হয়ে যাবে

দেশে ব্যাংকের সংখ্যা বেশি হয়ে গিয়েছে বলেই যে একীভূত করে কমানো হচ্ছে এমনটি নয় বরং দুর্বল ব্যাংক গুলো টিকিয়ে রাখতে সবল ব্যাংকের সাথে মার্জ করা হচ্ছে–এতে করে দুর্বল ব্যাংকগুলো নাম হারিয়ে যাবে এবং তা বিলুপ্ত হয়ে যাবে- সবল ও দুর্বল ব্যাংক একীভূতকরণ ২০২৪

আসলে দূর্বল ব্যাংক কয়টি? –দেশের ৫৪টি ব্যাংকের অবস্থা বিশ্লেষণ করে ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকসহ মোট ৩৮টি ব্যাংককে দুর্বল ব্যাংক হিসেবে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এমন এক সময়ে ব্যাংকগুলোকে ক্যাটাগরিভুক্ত করেছে যখন আগামী বছরের শুরুর দিকে ১০টি ব্যাংককে একীভূত (মার্জার) করার চিন্তা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক গোপন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ব্যাংক এখন দুর্বল। ‘রেড জোনের’ ব্যাংকগুলো সবচেয়ে খারাপ (পুওর) এবং ইয়েলো জোনের ব্যাংকগুলো দুর্বল (উইক) অবস্থায় রয়েছে। আর ‘গ্রিন জোনের’ ব্যাংকগুলো ভালো মানের (গুড)। ‘ইয়েলো জোনের’ ব্যাংকগুলো মধ্যবর্তী অবস্থায় রয়েছে।

রেড জোনে কয়টি ব্যাংক? ৫৪টি ব্যাংকের মধ্যে ১২টির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক, যার ৯টি ইতিমধ্যে রেড জোনে চলে গেছে। ইয়েলো জোনে আছে ২৯টি ব্যাংক; এর মধ্যে ৩টি ব্যাংক রেড জোনের খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে মাত্র ১৬টি ব্যাংক গ্রিন জোনে স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে ৮টিই বিদেশি ব্যাংক। অর্থাৎ গ্রিন জোনে দেশীয় ব্যাংকের সংখ্যা মাত্র ৮টি। ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত বিগত ছয়টি অর্ধবার্ষিক সময়ে ৫৪টি ব্যাংকের তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

ব্যাংক একীভূতকরণ প্রক্রিয়া কি? প্রথম ধাপে: দুটি ব্যাংকের বোর্ড এবং শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন লাগবে। দ্বিতীয় ধাপে: বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন লাগবে।তৃতীয় ধাপে: একীভূত ব্যাংকের নতুন নাম, লোগো এবং কাঠামো নির্ধারণ করা হবে। চতুর্থ ধাপে: একীভূত ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হবে। যদি স্বেচ্ছায় ব্যাংকগুলো একীভূত না হয় তবে জোরপূর্বক একীভূত করে দিবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

যে ব্যাংকগুলো মার্জ হবে / গ্রাহকের স্বার্থ সমুন্নত রেখেই ব্যাংক একীভূত করা হবে

ইয়োলো ব্যাংক কোনগুলো? সোনালী ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, ওয়ান ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংক।

10 weak Bank in Bangladesh

Caption: Red Bank in Bangladesh

একীভূত হওয়ার অপেক্ষায় ব্যাংক ২০২৪ । যে ব্যাংকগুলো দুর্বল ব্যাংক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে

  1. বাংলাদেশ ন্যাশনাল ব্যাংক
  2. বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক
  3. বেসিক ব্যাংক
  4. রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক
  5. আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক
  6. বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক
  7. পদ্মা ব্যাংক
  8. ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান
  9. এবি ব্যাংক।
  10. জনতা ব্যাংক

সেফ বা নিরাপদ গ্রিন ব্যাংক কোনগুলো?

গ্রিন জোনে থাকা ব্যাংকগুলো হলো প্রাইম ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, হাবিব ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, ব্যাংক আলফালাহ, ব্যাংক এশিয়া, সীমান্ত ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, উরি ব্যাংক, এইচএসবিসি, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন, সিটি ব্যাংক এনএ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বাংলাদেশ ও স্টেট ব্যাংক অভ ইন্ডিয়া। এসব ব্যাংক মূলত সেইভ বা গ্রিন ব্যাংক হিসেবে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *